Site icon dailysharenews.com – Share Market News Portal in Bangladesh

সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি? তদন্তে বিএসইসি

সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের স্পিনিং ইউনিট বন্ধ হলেও শেয়ার দর বৃদ্ধির পেছনো কারসাজিচক্র। কৃত্রিমভাবে শেয়ার দর বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অকাল্পনিক গল্প। যেখানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে শেয়ারদর বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। সেখানে ধারাবাহিক ভাবে দর বাড়ছেই। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্তে নেমেছে কারসাজি চক্রকে চিহ্নিত করতে।

কোম্পানিটি গত ১০ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১ জুন ২০২৬ থেকে স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কারখানার ভবন পুনর্নির্মাণ, নতুন আধুনিক স্বয়ংক্রিয় স্পিন্ডল যন্ত্রপাতি স্থাপন, যন্ত্রপাতি চালু করা এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনের জন্য স্পিনিং ইউনিটের কার্যক্রম প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকবে। তারপরও শেয়ারদর বাড়ছেই, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ? চলতি বছরের মে মাসের ২০ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। যা বর্তমানে ( ২ সেপ্টেম্বর) শেয়ারদর ৩৮ টাকা ২০ পয়সা। ৬৯ কার্যদিবসে শেয়ারদর বেড়েছে ১৩০ শতাংশ।

এদিকে স্পিনিং ইউনিটের সব যন্ত্রপাতি দ্রুত বিক্রি বা নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৬ আগস্ট পাঠানো প্রশ্নের জবাব দিয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল। ৯ আগস্ট দেওয়া জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার পেছনে কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

এবিষয়ে কোম্পানি সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, কোম্পানির দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি পুরোনো। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ওই ইউনিটের যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যয় বেড়েছে। বিএমআরই কার্যক্রম নিয়ে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন আলোচনা ও গুঞ্জনের বিষয়ে কোম্পানি সচিব বলেন, কারখানা বন্ধ এবং বিএমআরই কার্যক্রমের বিষয়টি কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে কারখানা আধুনিকায়ন ও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনে সময় লাগার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ারদর ওঠানামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কৃত্রিম সংকট বা শেয়ারের দর ওঠানামার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। বাজারের স্বাভাবিক গতিবিধির সঙ্গে কোম্পানির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। পুরোনো ইউনিটটি উৎপাদনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, সেই তুলনায় লাভ হচ্ছিল না। একই সঙ্গে বর্তমানে আরও আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বাজারে এসেছে। এ কারণে পুরোনো ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে সেখানে বিএমআরই কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরোনো যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। নতুন যন্ত্রপাতি চালু হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কোম্পানির কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি হবে।

এবিষয়ে বিএসইসি নিবার্হী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version