Site icon dailysharenews.com – Share Market News Portal in Bangladesh

বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত দীর্ঘমেয়াদি ব্রেড নিয়ে প্রশ্ন, খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদের ব্রেডের নিরাপত্তা, অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভের ব্যবহার এবং খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার (রিকল) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এক মাস মেয়াদি ব্রেডের পর এবার দুই মাস মেয়াদি একটি জ্যাম ব্রেডও পাওয়া গেছে, যেটিতেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর অনুমোদনের সিল রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অভিযানে ইস্ট বেকার্সের একটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযানের সময় সেখানে এমন কিছু বস্তা পাওয়া যায়, যেগুলোতে কোনো ধরনের লেবেলিং বা উপাদানের নাম উল্লেখ ছিল না। তার প্রশ্ন, চীন থেকে আমদানি করা কী ধরনের উপকরণ খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে যথাযথ নজরদারি কার দায়িত্ব।

মাহবুব কবির মিলন দাবি করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান ইস্ট বেকার্স এবং আরবোটিং ফুডের ব্রেড পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠালে তাতে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রিজারভেটিভ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-২-এ মামলা দায়ের করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তিনি আরও বলেন, আদালত সারাদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের (রিকল) জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার দাবি, দেশে অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নজির খুবই সীমিত এবং এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে রয়েছে।

একই পোস্টে তিনি বিএসটিআইয়ের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদের ব্রেড অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী ধরনের গবেষণা, নথি বা শেলফ লাইফ পরীক্ষার ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিএসটিআইয়ের কোনো ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, তিনি নিজ উদ্যোগে একটি পরীক্ষাগারে সংশ্লিষ্ট ব্রেডের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করাচ্ছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মাহবুব কবির মিলন প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

Exit mobile version